ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১টি বিমান-ড্রোন ধ্বংস, ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলার

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৩:২৫:১৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৩:২৫:১৯ অপরাহ্ন
​ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১টি বিমান-ড্রোন ধ্বংস, ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলার ​ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরুর পর গত আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সামরিক সরঞ্জামের মোট মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের তদন্ত ও অনুসন্ধানবিষয়ক সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ৫ অক্টোবর প্রতিবেদনটি কংগ্রেসে জমা দেওয়া হয়।

সিআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া সামরিক উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫ লাইটনিং-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ অ্যাটাক এয়ারক্রাফট।

গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের বাহিনীর গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই বিমান ভূপাতিত হয়। এপ্রিলে ইরানের আকাশে অভিযান চালানোর সময় আরও একটি এফ-১৫ই ধ্বংস হয়। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ গত ১৯ মার্চ ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে সেটি মেরামত করে আবার পরিষেবায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে ড্রোন। সিআরএসের সর্বশেষ হিসাবে তালিকায় অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন রয়েছে। নজরদারি ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কাজে ব্যবহৃত এই ড্রোনগুলোর ক্ষতির কারণে মে মাস নাগাদ মার্কিন বিমান বাহিনীর এমকিউ-৯ বহর ১৩৫টিতে নেমে আসে। অথচ ওই সময়ে মার্কিন বাহিনীর অন্তত ১৮৯টি মোতায়েনযোগ্য রিপার ড্রোন প্রয়োজন ছিল।

সিআরএসের তালিকায় আরও রয়েছে সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার, একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিশেষ অভিযানবিষয়ক বিমান এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।

এ ছাড়া একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টার এবং একটি এমএইচ-৬০ সিহক হেলিকপ্টারও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার তালিকায় রয়েছে।

ই-৩ সেন্ট্রি বিমানটির ক্ষতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে সিআরএস। কারণ, এই বিমান আকাশপথে নজরদারির পাশাপাশি কমান্ড ও কন্ট্রোল সক্ষমতা প্রদান করে। বোয়িং ৭০৭-এর কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি বিমানটি মার্কিন বিমান বাহিনীতে এমনিতেই সীমিত সংখ্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সিআরএসের বর্তমান হিসাব মে মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আগের সংস্করণে উল্লেখ করা ৪২টি বিমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে এর অর্থ এই নয় যে মে মাসের পর আরও ৩৯টি বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন তথ্য পাওয়া কিংবা আগে প্রকাশ না পাওয়া ক্ষয়ক্ষতির তথ্য শনাক্ত হওয়ার কারণে হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় সাড়ে তিন মাস পর জুনের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযানটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তবে এরপরও পরবর্তী মাসগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল।

গত আগস্টে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করার পর সামরিক হামলায় কিছুটা বিরতি দেখা দিয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো রয়েছে এবং যেকোনো সময় নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ